বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০১৩

ভালোবাসা


আমার অপ্রতিরোধ্য ভালোবাসা
তাতিয়ানা নোইয়োনেন
আপনি পুরুষ হলে আমাকে বুঝবেন।
আমি আমার প্রেমিককে ভালোবেসেছি কাব্যিক, অপার্থিব, সহজ, সুতীব্র, ত্বরিত ও অপরিসীম ভালোবাসায়।
আমি ভালোবেসেছি ওর শহর, যেখানে ওর বাস, যেখানে দাঁড়িয়ে আছে ওর বাড়ি, আলুর খোসা ছড়ানো সিঁড়ি, যেটা বেয়ে উঠে যেতে হয় ওর ফ্ল্যাটে। আমি ভালোবেসেছি ওর ফ্ল্যাটের একগাদা লেটারবক্স আর কলবেল সংবলিত দরজা। আমি ভালোবেসেছি সব কটি কলবেল আর লেটারবক্সের মালিকদের, ভালোবেসেছি অভূতপূর্ব এই শেয়ার্ড ফ্ল্যাটের* প্রতিটি প্রতিবেশীকে, যে ফ্ল্যাটের ১১টি ঘরের একটিতে থাকে ও।
আমি ভালোবেসেছি ওর দীর্ঘদেহী দরাজদিল প্রতিবেশিনী আলেভতিনা পাভলভনাকে।
আমি ভালোবেসেছি ওর আবিষ্কারক প্রতিবেশী ক্লোচনিকভকে, ভালোবেসেছি তার অনাগত প্যাটেন্টগুলোকেও।
আমি ভালোবেসেছি কাপিতোলিনা রিচার্দভনাকে—আইগ্লাস পরা প্রৌঢ়া, যিনি তাঁর অবসরের পুরোটাই অতিবাহন করেন অন্যদের চিঠি পড়ে।
আমি ভালোবেসেছি ওর আরেক প্রতিবেশী অদম্য ডাকটিকিট সংগ্রাহক সগুম্ফ পিকুসভকে।
আমি ভালোবেসেছি ওর মাকে—রেলস্টেশনের বুফেতে কর্মরতা মহিলা। ভালোবেসেছি তার চিকন ঠোঁট, তার অগণ্য কৌতুক।
আমি ভালোবেসেছি ওর কুৎসিতদর্শন পোষা প্রাণী নোংরা সাদা বিড়াল কিটিকে, ডাস্টবিনের সৌরভ সঙ্গে নিয়ে টেবিলের পাশের জানালা দিয়ে ঘরে ঢোকে যে।
আগে আমি নিজে অনেক কিছু ভালোবাসতাম, এখন আর বাসি না। কারণ, যা কিছু ওর পছন্দ, সেসব আমি ভালোবেসেছি।
মোৎসার্টের সিম্ফোনি আমি আর পছন্দ করি না। আমি ভালোবেসেছি তার প্রিয় সুরকার মাগোমায়েভের গান।
আমি ভালোবেসেছি ওর ব্যবহূত ওডিকোলন, ভালোবেসেছি ফিগার স্কেটিং, বন্ধুত্ব ও প্রেমবিষয়ক বিতর্ক, ওর ওয়ার্ডরোব, শহরের পার্কের লেকে নৌকাভ্রমণ। আমি ভালোবেসেছি সিনেমা হলে বসে সানফ্লাওয়ারের বিচি ছুলে ছুলে খাওয়া।
ওর আনন্দে আমি আনন্দিত হয়েছি, দুর্বল হয়েছি ওর দুর্বলতায়।
আমি ভালোবেসেছি ওর জিন, সিগারেট, কোট, স্নায়ুতন্ত্র, টাই, ঘুম, ওর চুল, ওর বিষাদ, ওর সাবান, ওর হাঁটার ধরন, ওর টুথপেস্ট ও ওর টুথব্রাশ।
এবং গা ভাসিয়ে দেওয়া ভালোবাসার এই স্রোতে আমি কাব্যিক, অপার্থিব, সহজ, সুতীব্র, ত্বরিত ও অপরিসীম ভালোবাসায় ভালোবেসে ফেলেছি ওর বসকে।
এবং ওকে ভুলে গিয়েছি।
আপনি পুরুষ হলে আমাকে বুঝবেন।
* সোভিয়েত যুগে অনেক সময় একটি ফ্ল্যাটের বিভিন্ন ঘরে আলাদা আলাদা পরিবার বাস করত। তেমন ফ্ল্যাটকে বলা হতো ‘শেয়ার্ড ফ্ল্যাট’।

বিশ্ব নারী দিবসের প্রাক্কালে একটি সাক্ষাৎকার
(সোভিয়েত যুগের সাহিত্যপত্রিকা লিতেরাতুরনায়া গাজেতা একবার বিশ্ব নারী দিবসের প্রাক্কালে রম্যলেখক আর্কাদি আর্কানভকে কয়েকটি প্রশ্ন করেছিল তাঁর স্ত্রী ও অন্যান্য নারী বিষয়ে।)
—আপনার স্ত্রীর কোন জিনিসটি আপনার সবচেয়ে পছন্দ?
—সেই জুতাজোড়া, যা আমি তাকে কিনে দিয়েছিলাম বিয়ের দিন।
—আগামীকাল, বিশ্ব নারী দিবসে আপনি কী কিনে দেবেন তাকে?
—আমি তো বলেইছি, বিয়ের দিন আমি তাকে একজোড়া জুতা কিনে দিয়েছি।
—আপনার স্ত্রীর দিকে সবাই ফিরে ফিরে তাকায়, এর পেছনে রহস্যটা কী?
—কারণ, তার পায়ে থাকে অপূর্ব একজোড়া জুতা, যা আমি তাকে কিনে দিয়েছিলাম বিয়ের দিন।
—আপনি তাকে বিয়ে করেছেন ভালোবেসে? নাকি...
—শুরু হয়েছিল ভালোবাসা দিয়েই, তবে জুতাজোড়া কিনে দেওয়ার পরে বিয়ে না করে উপায় ছিল না।
—আজ যদি রাস্তায় আপনার স্ত্রীকে প্রথমবারের মতো দেখতেন, তার দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকাতেন কি?
—অবশ্যই! অমন জুতা আছে নাকি আর কারোর পায়ে!
—আপনার স্ত্রীর সঙ্গে কিসের তুলনা চলতে পারে?
—অমন জুতাজোড়ার মালিকের সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে নাকি!
—প্রমীলা ফুটবল বিষয়ে আপনার মতামত কী?
—মেয়েদের ফুটবল খেলার বিরোধী আমি নই, তবে ওই জুতাজোড়ার কথা ভেবে কষ্ট হয়।
—আপনি যদি মেয়ে হতেন...
—আমি মেয়ে হলে নিজেই অমন জুতা পরে ঘুরে বেড়াতাম।

রু শ মি শা লি
 অনেক মেয়েই সিরিয়াস সাইটগুলোর মতো। বিশেষ সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে চাইলে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হয়।
 আমি চাই নারীশাসিত সমাজ। স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে ঢকঢক করে বিয়ার গিলে আমি দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে নাক ডেকে ঘুমাব। আর স্বামী কেঁদে বুক ভাসাবে। তারপর নিজের জিনিসপত্র স্যুটকেসে ভরে নিয়ে চলে যাবে বাবার কাছে।
 মেয়েদের চিরন্তন দুটি সমস্যা: ১. পরার কিছু নেই; ২. ওয়ার্ডরোবে আর জায়গা নেই।
 আমাকে ল্যাপটপের সামনে বসতে দেখলেই আমার স্বামীর ঈর্ষাবোধ জেগে ওঠে। অথচ এর চেয়ে কতটা বেশি সময় কাটাই আমি চুলোর সামনে!
 মেয়েরা সবকিছুই পারে, তবে তাদের অনেকের লজ্জাবোধ বড্ড বেশি।
 যে কারণে ছেলেদের দুর্বোধ্য বলা হয়, ঠিক সেই একই কারণে ‘রহস্যময়ী’ উপাধি পায় মেয়েরা।
 নারীরা অনেক কিছু চায় একজন পুরুষের কাছ থেকে আর পুরুষেরা একটা জিনিসই চায় অনেক নারীর কাছ থেকে।
 মহিলা-ড্রাইভার যদি ডানে যাওয়ার সিগন্যাল দেয়, সেটার মানে কিন্তু এই নয় যে সে বাম দিকেই যাবে।
 স্বামী জিজ্ঞেস করছে স্ত্রীকে: ১৫ মিনিট পরে রেডি হতে তোমার কতটা সময় লাগবে?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন